কি বলছে বাংলায় বিজেপির আভ্যন্তরীন সমীক্ষা? - The News Lion

কি বলছে বাংলায় বিজেপির আভ্যন্তরীন সমীক্ষা?




দি নিউজ লায়ন ;  এবারের নির্বাচনে কি তৃণমূল ফের রাজ্যে ক্ষমতায় ফিরবে? নাকি বিজেপি বাংলা দখল করবে? কে কটা আসন পেতে পারে? এই নিয়ে নানা জল্পনার অন্ত নেই। প্রতিনিয়ত নানা গুঞ্জনে সরগরম বঙ্গ রাজনীতি।  বিশেষ করে শুভেন্দু অধিকারী বিজেপিতে যোগদানের পর অনেকে তো ধরেই নিয়েছেন রাজ্যে বিজেপির ক্ষমতায় আসা এখন শুধুমাত্র সময়ের অপেক্ষা। 


অনেকে মনে করছেন, শুভেন্দু তৃণমূলের সঙ্গে যে গদ্দারি করেছেন তাতে তৃণমূলের সুবিধাই হয়ে গিয়েছে। কারন হিসাবে তারা মনে করছেন,  শুভেন্দু নাকি বিগত ভোটগুলিতে অমিত শাহের সঙ্গে গোপনে গোপনে  যোগসাজস  রেখে তৃণমূলের ক্ষতিই করে গিয়েছেন।  এদিকে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে  বাংলা জয়ের ক্ষেত্রে  বিজেপির টার্গেট ২০০ টি আসন। অন্তত অমিত শাহ বঙ্গ সফরে এসে তেমনটাই লক্ষ্যমাত্রা দিয়ে গিয়েছেন। সেইমতোই ঝাপাচ্ছে বিজেপিও। 


তবে সংবাদ সুত্রে খবর,  বিজেপির অভ্যন্তরীণ সমীক্ষা কিন্ত বলছে একটু ভিন্ন কথা। রাজ্যে ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটের ফলাফলের নিরিখে আপাতত ১২১ টি আসনে এগিয়ে রয়েছে বিজেপি। সেক্ষেত্রে ক্ষমতায় আসতে গেলে তাদের দরকার পড়বে আরও ২৭ টি আসন। আসলে বাংলার মাটিতে নবান্ন দখল করতে গেলে ম্যাজিক ফিগার হলো ১৪৮ টি। যা আদৌ সম্ভব কি না তা জানার জন্য অন্য সংস্থা দিয়ে বিজেপি আভ্যন্তরীণ সমীক্ষা চালায় বলে একটি গণমাধ্যম সুত্রে জানা গিয়েছে। যে রিপোর্ট ইতিমধ্যে অমিত শাহের হাতেও তুলে দেওয়া হয় বলে ওই সংবাদ সুত্রের খবরে প্রকাশ। 


সমীক্ষার হিসাব অনুযায়ি বর্তমান পরিস্থিতিতে বিজেপি বাংলায় ১৫০ থেকে ১৬০ টি আসন পেতে পারে। যা বিজেপির টার্গেটের থেকে অনেকটাই কম। ফলে ওই সমীক্ষার উপরে ভর করেই কোন জেলায় কীভাবে ঘুঁটি সাজানো হবে তা ঠিক করতে চলেছে বিজেপি। বিহারের মতো  ম্যাজিক ফিগারের কাছাকাছি থেকে বিরোধীদের তোপের মুখে থাকতে রাজি নয় বিজেপি নেতৃত্ব। অন্ততপক্ষে বাংলায় ম্যাজিক ফিগারের থেকে বেশ খানিকটা এগিয়ে থাকতে চাইছে বিজেপি।   প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালে অমিত শাহ বাংলায় ২২ টি লোকসভা আসনের টার্গেট দিয়েছিলেন। সেক্ষেত্রে সেই টার্গেটের থেকে ৪ টি আসন কম পেয়ে ১৮ টিতে এসে থামে বিজেপি। 


ফলে এবারেও অমিত শাহের দেওয়া টার্গেটের থেকে কমে এসে যাতে বিজেপির বিজয়রথ বাংলায় না আটকে যায় তারজন্য এখন থেকেই রাজ্য রাজনীতির ময়দানে ঝাপাচ্ছে গেরুয়া শিবির। এদিকে বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তৃণমূলও ধীরে ধীরে তাদের ঘর গোছাতে শুরু করে দিয়েছে। বিশেষ করে ভোটের আগে তৃণমূলের দুয়ারে দুয়ারে সরকার এবং সবার জন্য স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প জনমানসে অনেকটাই পজেটিভ প্রভাব ফেলেছে। সেখানে দাঁড়িয়ে তৃণমূলের ঘরে ভাঙ্গনের স্রোতকে যদি তৃণমূল নেতৃত্ব রুখে দিতে পারে  তাহলে তৃণমূলও ২০০ টির বেশি আসন পেতে পারেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ। 


অনেকে মনে করছেন হাজার দলীয় কোন্দল এবং দলে যতোই ভাঙ্গন লাগুক একা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যারিশমায় তৃণমূল ১৭০ থেকে ১৮০ টি আসনের  নীচে নামবে না। তবে বিভিন্ন মহলের পরিসংখ্যান যে কথাই বলুক না কেন, একুশের নির্বাচনে যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই অনিবার্য তা এককথায় স্বীকার করে নিয়েছেন প্রত্যেকেই। তবে সবথেকে বড়ো কথা হলো  এখনও নির্বাচনের অনেকটা দিন বাকি। তারমধ্যে  প্রতিমূহুর্তে রাজনীতির হাওয়া পাল্টাচ্ছে বাংলার মাটিতে। সেখানে দাঁড়িয়ে শেষ হাসি কারা হাসবে তা নিয়ে ধন্দ থেকেই যাচ্ছে।      

কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.